
কক্সবাজারের পরিচিতি সমুদ্রসৈকত দিয়ে হলেও এ অঞ্চলে রয়েছে ইতিহাস ও লোককথায় ঘেরা নানা স্থান। তেমনই একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন টেকনাফের মাথিনের কূপ। জমিদারকন্যা মাথিন ও ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা ধীরাজ ভট্টাচার্যের কথিত প্রেমকাহিনির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই কূপ আজও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
টেকনাফ থানার কাছাকাছি অবস্থিত কূপটি নিয়ে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, চাকরিসূত্রে টেকনাফে থাকা ধীরাজের সঙ্গে মাথিনের পরিচয় হয় কূপে পানি নিতে আসার সময়। পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে এই প্রেমকাহিনি সাহিত্যেও জায়গা করে নেয়।
স্থানীয় মানুষের কাছে মাথিনের কূপ শুধু একটি পুরোনো জলাধার নয়; এটি টেকনাফের অতীত, জমিদারি আমলের স্মৃতি এবং এক অসমাপ্ত প্রেমের গল্পের প্রতীক। সময়ের সঙ্গে আশপাশের পরিবেশ বদলালেও ঐতিহাসিক স্থানটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ রয়ে গেছে।
টেকনাফ ভ্রমণে সমুদ্রসৈকত ও নাফ নদীর পাশাপাশি মাথিনের কূপও ঘুরে দেখতে পারেন পর্যটকেরা। ইতিহাস, সাহিত্য ও লোককথায় আগ্রহীদের কাছে স্থানটি বিশেষ আকর্ষণীয়। ভ্রমণের আগে স্থানীয়ভাবে প্রবেশব্যবস্থা ও দর্শনীয় স্থানের বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো।
পাহাড়, সমুদ্র ও নাফ নদীঘেরা টেকনাফে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইতিহাসের স্বাদও পাওয়া যায়। তাই কক্সবাজারের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে ভিন্ন অভিজ্ঞতা পেতে মাথিনের কূপ হতে পারে ভ্রমণতালিকার একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।